মেয়েটা যখন সংসার সামলায় ছেলেটা তখনো গিটার বাজায়।
গিটারের দুটো তার কেটে যায়। নতুন তার কিনতে টাকা লাগবে। এই বয়সে আর গিটারের তার কেনার কথা বাসায় বলা যায় না। ছেলেটার গিটারে আর ভালো সুর ওঠে না। ক্লান্ত দুপুরগুলোতে এখন আর কেউ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে গিটারের টুং-টাং শোনে না। এখন আর কাউকে বিশেষ দরকারও পড়ে না অবশ্য!
আরো কিছুদিন কেটে যায়। মেয়েটা বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যায়। ছেলেটা বাইকে করে অফিসে যায়। রাস্তায় দেখা হয়ে যায় আবার। হাসি-হাসি মুখে দু’জনই দু’চারটা কথা বলে, চলে যায়। এখন দু’জনেরই ব্যস্ততা আছে। ব্যস্ততার মধ্যে ভালোবাসা থাকে না। ভালোবাসা ব্যস্ততা পছন্দ করে না। ব্যস্ত মানুষদের জন্য ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা হচ্ছে 'বেকার' নামক অফুরন্ত সময় বিশিষ্ট সুন্দর মানুষদের জন্য।
মধ্যরাতে মেয়েটার ফোনে একটি মেসেজ আসে, যেখানে কয়েকটি শব্দে লেখা—
“Thank you, for letting me love you.”
মেয়েটার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। সে জবাব দেয়—
“And… thank you, for loving me.”
অপরদিকে ছেলেটাও হাসছে। তৃপ্তির হাসি। তৃপ্তির হাসিতে শব্দ থাকে না।
ভালোবাসায় কখনো হার-জিত থাকে না। ভালোবাসায় লাভ-লোকসান থাকে না , কারণ ভালোবাসার সঙ্গে 'রুম-ডেট' নামক শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
ভালোবাসা কেএফসি, পিৎজা হাটের এয়ার কন্ডিশনারে ঢুকতে প্রচণ্ড সংকোচ বোধ করে। ভালোবাসা বরং রাস্তার ধারে তারা মামার গরম চটপটিতে ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং ভালোবাসা কখনো শেষ হয়ে যায় না। ভালোবাসা কখনো শহুরে রাস্তার সোডিয়াম বাতির হলুদ আলোর নিচে ঘুরে ফিরে বেড়ায়, কখনো অজ-পাড়াগাঁয়ের কোনো শান্ত দিঘীর পাড়ে একলা বসে জোছনা দেখে।
যেখানেই থাক, যেভাবেই থাক, ভালো থাকুক সবার ভালোবাসা।
